• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

আজ সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস

সিসি নিউজ।। আজ ১২ এপ্রিল সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি কলংকিত প্রেক্ষাপট রচিত হয় এ দিনটিতে। এইদিনে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) শহীদ ডা. জিকরুল হকসহ স্থানীয় দেড়শতাধিক বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, পেশাজীবী ও ছাত্র-যুব নেতাকে পাকিস্তানি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। দিবসটি উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন, রক্তঝরা-৭১, প্রজন্ম’৭১-সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সৈয়দপুরে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

অবাঙালি (উর্দুভাষী) অধ্যুষিত সৈয়দপুর শহরে সারাদেশে যুদ্ধ শুরুর দুইদিন আগে ২৩ মার্চ সর্বাত্মক লড়াই শুরু হয়। এর আগে স্থানীয় লিবার্টি সিনেমা হলে (বর্তমানে শিল্প-সাহিত্য সংসদ সুপার মার্কেট) বাংলা ছায়াছবি ‘আপন পর’ মুক্তি পায়। এর বিরোধিতা করতে থাকে স্থানীয় অবাঙালিরা। তাদের দাবি এখানকার হলগুলোতে কেবলই উর্দু ছবি চলবে। বাংলা সংস্কৃতি রক্ষায় সর্বস্তরের বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুললে শহরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এতে আরও ক্ষুদ্ধ হয় উর্দুভাষী ওইসব অবাঙালি। তারা উসকে দিতে থাকে সৈয়দপুর সেনানিবাসে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের আর্মিদের।

পাকিস্তানি বাহিনী ২৩ মার্চ সারা শহর অবরোধ করে। পাকিস্তানি বাহিনী ঘরে-ঘরে গিয়ে নেতা ও যুবকদের ধরপাকড় করে। এই পাকড়াও কাজে সহায়তা দেয় চিহ্নিত অবাঙালিরা। এ দিন প্রথম প্রতিরোধ হয়। পার্শ্ববর্তী আলোকডিহি ইউনিয়নের (দিনাজপুর জেলার বর্তমান চিরিরবন্দর উপজেলার অন্তর্গত) চেয়ারম্যান মাহাতাব বেগ অবরুদ্ধ বাঙালিদের উদ্ধারে ছুটে আসেন। সম্মুখ লড়াই বাঁধে সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া বাঁশবাড়ি এলাকায়। পাকিস্তানি বাহিনীর ভারি অস্ত্রের কাছে পরাভূত হন বীর বাঙালি সন্তান মাহাতাব বেগ। ২৪ মার্চ’ তখন দুপুর গড়িয়েছে। শহীদ মাহাতাব বেগের ছিন্ন মস্তক হাতে উলস্নাস প্রকাশ করতে করতে অবাঙালিরা মিছিল বের করলে সৈয়দপুর শহরে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। চলতে থাকে মহল্লায় মহল্লায় বাঙালি নিধন।

২৩ মার্চ থেকে যেসব বাঙালি নেতাদের গ্রেপ্তার করে একত্রিত করা হয় সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টের সামরিক হাজত কোয়ার্টার গার্ডে। সেখানে অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। ওই কোয়ার্টার গার্ডে বন্দি ছিলেন এমপিএ ডা. জিকরুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. শামসুল হক, ডা. বদিউজ্জামান, ন্যাপ নেতা ডা. এস এম ইয়াকুব, রেলওয়ে কর্মকর্তা আয়েজ উদ্দিন, দানবীর তুলশীরাম আগরওয়ালা, যমুনা প্রসাদ কেডিয়া, রামেশ্বর লাল আগরওয়ালা প্রমুখ।

১২ এপ্রিল একটি বিশাল সামরিক কনভয় এগোতে থাকে রংপুর শহর অভিমুখে। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে যাওয়া ওই কনভয়ে অনেকগুলো লোককে দেখা যায়। সবার চোখ কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা। তাদের নেওয়া হয় রংপুর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন নিসবেতগঞ্জ গ্রামে। বিশাল এক বধ্যভূমি। ওই বধ্যভূমিতে হত্যাযজ্ঞে অলৌলিকভাবে বেঁচে যান ছাত্রনেতা কমলা প্রসাদ।

১২ এপ্রিলের হত্যাকান্ডসহ ৯ মাসের যুদ্ধে সৈয়দপুরের প্রায় আড়াইহাজার শহীদের স্মরণে উদযাপিত হবে এই শহীদ দিবস। এ জন্য শোক পদযাত্রা, শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকালে সব ভবন শীর্ষে ওড়ানো হবে জাতীয় ও কালো পতাকা, মিলাদ-মাহফিল, গরিব-দুঃখীদের মধ্যে খাবার পরিবেশনসহ নানা কর্মসূচ পালন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ